কালেমা লেখা পতাকা টানিয়ে জঙ্গিবাদের নাটক তৈরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিএনপি নেতা রিপনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমা লেখা পতাকা টানিয়ে জঙ্গিবাদের আতঙ্ক সৃষ্টি এবং একটি ‘সাজানো নাটক’ তৈরির চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

ড. রিপন বলেন, অতীতে দেশে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি দেখানোর জন্য এ ধরনের সাজানো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরির চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো বাস্তবতা নেই। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; রাষ্ট্র, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ধাপে ধাপে সংস্কার প্রয়োজন।

সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই আন্দোলনের যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা ছিল, তার বাস্তবায়নে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যকর করার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা এই আন্দোলন দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিষয়ে জনগণের মতামত ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আদালতের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ও আদর্শকে ক্ষুণ্ন করার নানা চেষ্টা চলছে। তবে সেই চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, সাংবাদিক শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার, ফারাহ নাজ, জুলাই শহীদ আরাফাত হোসেনের বড় ভাই হাসান আলী এবং সাংবাদিক সালাউদ্দীন বাবলুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত