সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, গাজী নজরুলকে রুকন (সদস্য), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্যসহ সংগঠনের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর সাংগঠনিক তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত সোমবার রাতে ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তরুণী, তাঁর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও জানান, তাঁদের বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কাজী জানান, বিয়ে ১৭ জুন হলেও নিবন্ধন করা হয়েছে ১৯ জুলাই। যদিও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নিবন্ধন করা যায়।
এদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর চাকরির জন্য এমপি গাজী নজরুলের সুপারিশপত্রও আলোচনায় আসে। ২২ জুন তারিখের একটি জীবনবৃত্তান্তে তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া যায়, যেখানে ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ ছিল। এ বিষয়ে তরুণীর দাবি, জীবনবৃত্তান্তটি বিয়ের আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে এমপি তাতে স্বাক্ষর করেন। তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো বেসরকারি চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন এবং পরিবারের সম্মতিতেই স্বেচ্ছায় গাজী নজরুলকে বিয়ে করেছেন।
তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।