ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্তের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্রসমাজও তাঁর পদত্যাগ দাবি করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো সেই দাবিতে সাড়া দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলগত কয়েকটি কারণ।
প্রথমত, মোদি সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আন্দোলনের চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা। কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘটনা ছাড়া গত এক যুগে বড় কোনো আন্দোলনের মুখে সরকার মন্ত্রী অপসারণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। তাই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে সরকারকে চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে—এমন বার্তা যেতে পারে, যা এড়িয়ে চলতে চাইছে বিজেপি।
দ্বিতীয়ত, ধর্মেন্দ্র প্রধান কেবল শিক্ষামন্ত্রী নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী এবং বিজেপির অন্যতম নির্বাচনী কৌশলবিদ। ওডিশা, বিহার, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে দলের নির্বাচনী সাফল্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাঁকে অপসারণ মানে সরকারের একজন বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সংগঠককে হারানো।
তৃতীয়ত, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে নিট পরীক্ষা, জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কার্যক্রমে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করার মতো বার্তা যাবে। এখন পর্যন্ত সরকার তদন্ত, পরীক্ষা বাতিল ও সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর দায় স্বীকার করেনি। তাই তাঁকে সরানো রাজনৈতিকভাবে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
চতুর্থত, ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী অনগ্রসর (ওবিসি) নেতা হিসেবে বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওডিশা ও বিহারে অনগ্রসর ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাঁকে সরানো হলে ওই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এবং পূর্ব ভারতে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পঞ্চমত, বিজেপির অবস্থান হলো—মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন বা থাকবেন না, সে সিদ্ধান্ত কেবল প্রধানমন্ত্রীর। আন্দোলন বা বিরোধী দলের চাপে মন্ত্রী অপসারণ করলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের দাবির মুখে সরকারকে পড়তে হতে পারে। তাই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে সরকার আপাতত অনড় অবস্থান নিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয় এবং আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করতেই পারে। আপাতত শিক্ষামন্ত্রীকে সরানোর কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বিষয়টি অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।