দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সংস্থাটিকে আবার কার্যকর করতে ধারাবাহিক রাজনৈতিক উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সার্কের বিদায়ী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চায়। এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নতুন করে রাজনৈতিক মনোযোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও উভয় পক্ষ মত দেন।
গোলাম সারোয়ার সার্কের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক এই সংস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করেন। উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় সার্কের নিয়মিত কার্যক্রম ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
সার্কের বিদায়ী মহাসচিব জানান, ২০২৬ সালের শেষ দিকে ‘সার্ক ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’ প্রকাশিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বের প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ বলেন, তাঁর মেয়াদে যে গতি তৈরি হয়েছে, পরবর্তী মহাসচিবের সময়ও তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। সার্ক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে আটটি দেশ এ সংস্থার সদস্য। তবে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও পারস্পরিক টানাপোড়েনের কারণে সার্কের কার্যক্রম বেশ কয়েক বছর ধরে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।