সৌদি আরবের জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী, কেন গঠন হচ্ছে?
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে নতুন একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
কেন এই জোট?
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সৌদি আরব লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ায়। তবে হুতিদের হামলা ও সৌদি বন্দর অবরোধের ঘোষণায় সেই রুটও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এর পাশাপাশি, হুতিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই সৌদি আরব এই যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।
কোন কোন দেশ আছে?
সৌদি আরব ছাড়াও জোটে রয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।
জোটের সদরদপ্তর হবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে।
বাংলাদেশের ভূমিকা কী?
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগদানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সৌদি আরবের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজ নিজ সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হবে।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো—
- সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে
- গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে
- যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণে অংশ নেবে
- সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে
- প্রয়োজন হলে যৌথ সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা করবে
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো দেশ বা জোটের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না।
বাংলাদেশের অবস্থান
গত ২২ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোহিত সাগরে হুতিদের নৌ অবরোধের নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের মতে, লোহিত সাগরে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচলের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও জানানো হয়।
হুতিদের প্রতিক্রিয়া
জোট ঘোষণার আগে হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলেন, সৌদি যদি উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে তারাও "সর্বাত্মক প্রতিক্রিয়া" জানাবে।
হুতিদের অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইয়েমেনকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রাখা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?
লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এর সঙ্গে যুক্ত বাব এল-মান্দেব প্রণালি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের প্রধান রুটগুলোর একটি।
প্রতি বছর এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।