দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তপশিল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের বিধান অনুযায়ী তপশিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। সে কারণেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিইসি জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকলে এক ধরনের প্রক্রিয়ায় এবং অধিবেশন না থাকলে অন্য বিধান অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বৈঠকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এলে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংসদ সচিবকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শূন্য হওয়া পদটি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন সরকারি গেজেটে তপশিল ঘোষণা করবে। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সুবিধাজনক সময় নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।