বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ভারত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো দেশের আধিপত্যই বাংলাদেশ মেনে নেবে না; স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এখনো শেষ হয়নি। তাঁর ভাষায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সাম্প্রতিক নির্বাচনে সরকার গঠনের পাশাপাশি জনগণ আরেকটি গণরায় দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ মাস অতিক্রম হয়েছে। সরকার এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারলে সেটিকে ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন। গত ১৬ বছরে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ১১ জুলাই শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেডের সময় তাদের অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।