দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে উপকারভোগীদের তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অযোগ্য ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমানে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
সরকারি অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জিটুপি’ বা গভর্নমেন্ট-টু-পার্সন পদ্ধতি চালু রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ব্যবস্থায় ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট, ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা—তিন ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার মাসিক পরিমাণ ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার মাসিক হারও ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক পরিমাণ ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ ও আওতাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন অর্থবছরে প্রাথমিক স্তরে মাসিক ১ হাজার টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চতর বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বৃত্তির উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করা হয়েছে।
ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জটিল হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। পাশাপাশি এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উপকারভোগী নির্বাচনে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সুবিধা প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।