চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের ষোলশহর এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যার ফলে এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আন্দোলনকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বৃষ্টির পানিতে ক্যালকুলেটরসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রমী উপায়ে প্রতিবাদও জানান। তারা বিশ্বকাপে নরওয়ের উদ্যাপনের আদলে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন এবং স্লোগানের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
- বৈরী আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
- ১২ ও ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
- বৃষ্টির কারণে যেসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট বা হারিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত শিক্ষা বোর্ড থেকে নতুন কপি সরবরাহ করা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষা বোর্ড ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।