বিশ্বকাপে চমকের পর কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

 

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি ছিল আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশটি প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। মাঠের সেই সাফল্যের পর এবার কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়েও ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার প্রকাশিত কান্ট্রি ইকোনমিক আপডেট ২০২৬-এ বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কেপ ভার্দের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের আগমন, বেসরকারি খাতে ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উন্নতিই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, পর্যটন খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি এবং দ্বীপগুলোর মধ্যে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখনও দেশটির অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।

‘আনপ্যাকিং দ্য ইন্টার-আইল্যান্ড কানেক্টিভিটি–গ্রোথ নেক্সাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থার অভাব উৎপাদনশীলতা, বাজার সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে।

দারিদ্র্য ও বেকারত্বে উন্নতি

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেপ ভার্দের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছালেও দারিদ্র্যের হার ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৫১ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

শ্রমবাজারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সার্বিক বেকারত্বের হার কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এখনও ১৫ শতাংশের বেশি, যা দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

রিজার্ভ ও রাজস্বে নতুন মাইলফলক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপ ভার্দের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

একই সময়ে সরকারি রাজস্ব আদায় প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো আর্থিক উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে দেশটি।

সামনে কিছুটা ধীর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে কেপ ভার্দের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে। তবে মধ্যমেয়াদে তা আবার প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কেপ ভার্দে আবাসিক প্রতিনিধি ইন্দিরা কাম্পোস বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতা দেশটির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন পর্যটননির্ভর অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করতে হলে দ্বীপগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ব্যয় কমাবে, বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগের সুযোগ করে দেবে।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্যয়বহুল অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা এখনও অর্থনৈতিক সংযোগ ও পর্যটন খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সেই প্রবৃদ্ধি থেকে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশেষ করে তরুণ, নারী এবং পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা তুলনামূলক কম সুফল পাচ্ছেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত