ইসলামি বর্ষপঞ্জির চক্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একই ইংরেজি বছরে একাধিক ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের বিরল সুযোগ পাবেন মুসলমানরা। হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে এমন বিরল সময়চক্র তৈরি হচ্ছে, যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত গালফ নিউজ ও ইত্তেফাক ডিজিটালের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০৩৯ সাল: এক বছরে ৩ ঈদ ও ২ হজ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের বিরল অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ২০৩৯ সালের ক্যালেন্ডার হবে নিম্নরূপ:
১. প্রথম ঈদুল আজহা: ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে বছরের প্রথম ঈদুল আজহা। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ। অর্থাৎ বছরের শুরুতেই পবিত্র হজের সমাপ্তি ও কোরবানি অনুষ্ঠিত হবে। ২. ঈদুল ফিতর: এরপর ১৯ অক্টোবর ২০৩৯ তারিখে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ৩. দ্বিতীয় ঈদুল আজহা: হিজরি বর্ষপঞ্জি পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে আবারও একই ইংরেজি বছরের মধ্যেই ফিরে আসবে। ফলে ২০৩৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার হজ মৌসুম শেষ হবে এবং পালিত হবে আরেকটি ঈদুল আজহা। এটি হবে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ।
অর্থাৎ, একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি পৃথক হজ এবং দুটি আলাদা আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
কেন এমন ঘটবে? ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানান, এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটছে মূলত হিজরি (চন্দ্রবর্ষ) ও গ্রেগরিয়ান (সৌরবর্ষ) ক্যালেন্ডারের মধ্যকার সময়গত পার্থক্যের কারণে।
-
হিজরি বর্ষ: চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল, যার দৈর্ঘ্য বছরে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন।
-
গ্রেগরিয়ান বর্ষ: সূর্যের গতির ওপর নির্ভরশীল, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণে ইসলামি মাসগুলো প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
২০৩০ সালে দুই রমজান চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব শুধু ঈদ বা হজে সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—
-
একবার জানুয়ারি মাসে।
-
আরেকবার ডিসেম্বর মাসে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে (২০৩০ সালের হিসেবে)।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ একসঙ্গে দেখা যায়—যা মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অনন্য ধর্মীয় চক্র।