ভারতে শিক্ষা সংস্কারের জন্য গঠিত নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে একজন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান এবং ‘গোমূত্র–বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিত একজন শিক্ষাবিদকে কেন রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন সংশোধনী বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেন। স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নতুন কমিটি গঠন করলেই হবে না, আগে পরামর্শদাতাদের বদলানো প্রয়োজন। অন্যথায় কমিটির নেতৃত্বে যিনিই থাকুন, তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন প্রিয়াঙ্কা।
তিনি বলেন, কমিটিতে একজন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং একজন ‘গোমূত্র–বিশেষজ্ঞ’কে রাখা হয়েছে। শিক্ষা সংস্কারে তাঁদের ভূমিকা কী হবে—সেটিই জানতে চান তিনি।
যদিও প্রিয়াঙ্কা কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ভি কামাকোটির কথাই বলেছেন। ২০২৫ সালে এক অনুষ্ঠানে গোমূত্রের বিভিন্ন ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, এটি জীবাণু ও ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে এবং কিছু শারীরিক সমস্যার উপশমে সহায়ক হতে পারে। তাঁর সেই মন্তব্য সে সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের পর সরকারদলীয় সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর বলেন, ভি কামাকোটির মতো একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদকে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। আরএসএসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকলেও সেটি তাঁর যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার গঠিত শিক্ষা সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকেনিকে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা নীতিবিদ অনীতা করওয়াল, ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ, সাবেক আমলা অমৃতলাল মীনা, ভি কামাকোটি এবং সাবেক গোয়েন্দা ব্যুরোপ্রধান তপন ডেকা।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংসদে উত্থাপিত সংশোধনী বিলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করে দ্রুত বিচার আদালতে বিচার সম্পন্ন করার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই পুরোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে নতুন কমিটি গঠন করলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।