কাতারের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর ও দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে রাজধানী দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মাগরিবের নামাজ শেষে দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় দেশটির বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, রাজপরিবারের সদস্য, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বর্তমান আমির ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা মরদেহ বহন করে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হামাদের দাফন অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। তাঁকে লুসাইল কবরস্থানে একটি সাধারণ কবরে সমাহিত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, এই সরল আয়োজন ইসলামি ঐতিহ্যের পাশাপাশি শেখ হামাদের ব্যক্তিগত জীবনদর্শনেরও প্রতিফলন। তিনি আড়ম্বরের পরিবর্তে সাধারণ জীবনযাপন এবং জনগণের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর কাতার শাসন করেন শেখ হামাদ। তাঁর নেতৃত্বে দেশটি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন ও রপ্তানির মাধ্যমে তাঁর শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ২৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালের মধ্যে কাতার বিশ্বের শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
আঞ্চলিক কূটনীতিতেও শেখ হামাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১২ সালে গাজার ওপর অবরোধ চলাকালে সেখানে সফর করা একমাত্র আরব নেতা ছিলেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।