ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পৃথক হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সূত্র। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়, মারিব ও হাদরামাউতের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়।
হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে সরকারি বাহিনীর ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পাল্টা হামলা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হুথিরা আল-জাওফ প্রদেশ থেকে অন্তত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রুক এলাকার সামরিক স্থাপনা।
দীর্ঘ কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করার পর সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে হুথিরা সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলের পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করলেও এখন পর্যন্ত হুথিদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।