যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় দেখার ব্যবস্থা করে পরিচিতি পাওয়া ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে গাজার বাসিন্দাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ট্যাক্সিতে করে যাওয়ার সময় একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র গাড়িটিতে আঘাত হানে। এতে মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদিসহ চারজন নিহত হন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত আল-ওয়াহিদিও।
৬৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি যুদ্ধ শুরুর আগে ইংরেজি ভাষার শিক্ষক ছিলেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর তিনি গাজায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে সক্রিয় ছিলেন।
ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ ও দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার আয়োজন করেছিলেন। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও এসব আয়োজন অনেক মানুষের জন্য স্বস্তি ও আনন্দের ক্ষণিকের উপলক্ষ হয়ে উঠেছিল।
আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ত্রাণ কার্যক্রমের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
অধিকারকর্মী মোহাম্মদ হুমাইদ এক শোকবার্তায় লিখেছেন, “তিনি শুধু একজন ত্রাণকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আশার প্রতীক। তাঁর মানবিকতা, সততা ও উদারতা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, গাজায় যারা অন্যের জীবন বাঁচাতে কাজ করছেন, তারাও হামলার শিকার হচ্ছেন। তবে মানবিক কাজ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা কখনো মুছে ফেলা যায় না; তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।