যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন না করে, তাহলে এই চুক্তি অনুমোদনের পথে এগোবে না।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য হবে এবং এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ রাখা হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন চুক্তিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে—এমন কিছু প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ আরও বেড়েছিল। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন চুক্তিতে এমন কোনো সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, সৌদি আরব আগের অবস্থানেই রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত অগ্রগতি ছাড়া তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। ফলে ট্রাম্পের নতুন শর্ত মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের উদ্যোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে আরও কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত হয়। সৌদি আরবকেও এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ নতুন সমঝোতাকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি এখন মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কূটনীতি, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব বিশ্বের সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি