সাত মাস পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে তামিল তারকা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’। অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা হওয়ায় ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, বিজয়ের অভিনয় ও পর্দা উপস্থিতির প্রশংসা যেমন রয়েছে, তেমনি গল্প ও ছবির দৈর্ঘ্য নিয়েও এসেছে সমালোচনা।
এইচ বিনোথ পরিচালিত ছবিটিকে বিজয়ের বিদায়ী চলচ্চিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক দর্শকের মতে, পুরো ছবিজুড়ে বিজয় নিজের স্বাভাবিক ক্যারিশমা ধরে রেখেছেন। পাশাপাশি অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কয়েকটি আবেগঘন দৃশ্যও দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, গল্পে নতুনত্বের ঘাটতি রয়েছে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ সময় সিনেমার গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক দর্শক ছবিটিকে গড়পড়তা বলে মন্তব্য করে জানান, প্রথমার্ধ মোটামুটি উপভোগ্য হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্ল্যাশব্যাক অংশ ছাড়া বিশেষ চমক ছিল না। আবার আরেক দর্শক ৫-এর মধ্যে ৩.২৫ নম্বর দিয়ে বলেন, বিজয় ও মামিথা বাইজুর রসায়ন, অনিরুদ্ধর সংগীত এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ছবিটিকে উপভোগ্য করেছে। তবে খলনায়কের চরিত্রটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলেও মত দেন তিনি।
ভক্তদের অনেকেই বলেছেন, প্রথমার্ধে বিজয়ের পরিচিত ‘ম্যাস’ মুহূর্তগুলো ভালো লেগেছে। যদিও গল্পটি পরিচিত ধাঁচের, তবু প্রযুক্তিগত দিক এবং উপস্থাপনায় ছবিটি আকর্ষণীয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। অন্যদিকে কয়েকজন দর্শকের মতে, দ্বিতীয়ার্ধে ছবির গতি কিছুটা কমে গেলেও বিজয়ের অভিনয় ও সংগীত পুরো অভিজ্ঞতাকে ধরে রেখেছে।
ছবির রাজনৈতিক আবহ এবং দীর্ঘ ফ্ল্যাশব্যাক অংশ নিয়েও আলোচনা চলছে। কিছু দর্শক মনে করছেন, এই অংশে পরিচালকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং বিজয়ের চরিত্রকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়েছে এবং সংলাপেও আরও পরিমার্জনের সুযোগ ছিল।
‘জন নায়গন’-এ বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মামিথা বাইজু, প্রকাশ রাজ, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রিয়ামণি ও নারাইন। ছবিটি মুক্তির মধ্য দিয়ে বিজয়ের অভিনয়জীবনের ইতি ঘটলেও, তিনি এখন পুরোপুরি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিচ্ছেন।