মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। প্রশাসনের দাবি, দেশের নিরাপত্তা, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এই নোটিশের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও ৬০ দিন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের কিছু সদস্য অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেনা প্রত্যাহার বা নতুন অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে, ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। পাশাপাশি গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত দুই দেশের সমঝোতা স্মারকও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। চুক্তি ভঙ্গের দায় নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অবস্থানের কথাও ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নেবে এবং এ পথ ব্যবহারকারী পণ্যবাহী জাহাজের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ-অবরোধ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান অথবা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জাহাজের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
সাম্প্রতিক এই ঘোষণাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।