১৩ হাজার কনটেইনার নিয়ে সাগরে ভাসছে অনিশ্চয়তা: বিদেশি ক্রেতাদের এক সিদ্ধান্তে ধস নামবে পোশাকশিল্পে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রাম বন্দরে টানা ৬ দিনের নজিরবিহীন ধর্মঘটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক চিত্র। ধর্মঘট স্থগিতের পর অপারেশনাল কাজ শুরু হলেও ডিপোতে আটকে পড়া পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সেই ১৫ জন কর্মচারী নেতার বিরুদ্ধে এবার কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বন্দর সূত্রে উঠে এসেছে এই সংকটের ভেতরের খবর।

১৫ নেতার ওপর নেমে এল ‘খড়গ’ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী ১৫ কর্মচারীকে আগেই মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছিল। এবার তাদের ঘিরে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে এই ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

  • সম্পদের হিসাব তলব: তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকে (এনএসআই) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

  • অভিযুক্ত কারা: তালিকায় আছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবির এবং সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পোশাকশিল্পে অশনিসংকেত বন্দরের অচলাবস্থার কারণে ডিপোতে আটকা পড়েছে রপ্তানি পণ্যবোঝাই প্রায় ১৩ হাজার টিইইউএস (TEUs) কনটেইনার, যার ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক।

  • বিজিএমইএ-এর শঙ্কা: বিজিএমইএ-এর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে ‘ইমেজের’। বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

  • ক্রেতাদের অনাগ্রহ: চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, “নির্দিষ্ট লিড টাইম মিস হলে বায়াররা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।”

বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি ধর্মঘট শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানান:

  • গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৫টি মাদার ভেসেল চলাচল করেছে।

  • ২ হাজার ২৪৭ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে।

  • তবে জট এখনো কাটেনি; ৫৯ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ইয়ার্ডে এখনো ৩৬ হাজার ৭০৮ টিইইউএস কনটেইনার জমে আছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত