‘স্যার, কসম করেন’—আত্মসমর্পণের আগে পুলিশের কাছে মোবারকের আকুতি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানের সময় ফলস ছাদের মধ্যে লুকিয়ে থেকে গুলি ছোড়ার পর শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে গ্রেপ্তার হয়েছেন মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’। আত্মসমর্পণের আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় মোবারককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একটি ঘরের ফলস ছাদে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে মোবারক পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মোবারককে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তাঁকে আশ্বস্ত করে এক পুলিশ সদস্য বলেন, জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে পুলিশের কাছে ধরা দিতে হবে। পুলিশ তাঁকে নিরাপদে রাখার আশ্বাসও দেয়।
তবে মোবারক প্রথমে অস্ত্র ফেলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’
পুলিশ সদস্যরা তখন তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘খোদার কসম, কিছু করব না।’ এরপরও মোবারক কিছুটা সময় চান এবং আবারও তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করার পর তিনি আত্মসমর্পণে রাজি হন।
পুলিশের এক সদস্য তাঁকে বলেন, অস্ত্র ফেলে নিচে নেমে আসতে। পরে ঘরে থাকা এক বৃদ্ধের কাছে অস্ত্রটি রেখে দিতে বলা হয়। একপর্যায়ে মোবারক পুলিশের আশ্বাসে রাজি হয়ে বলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের।
অভিযানে মোবারকের তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং চারটি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। তিনি জানান, অভিযানের সময় মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজেসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। পরে দীর্ঘ সময়ের অভিযানের পর ফলস ছাদ থেকে মোবারককে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।