বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সফর ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরও খোলেনি মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ফলে নতুন করে প্রায় ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়টি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা, ঢালাও মামলা এবং নতুন সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টার কারণে বাংলাদেশ যখন পিছিয়ে, তখন দেদারসে কর্মী পাঠাছে নেপাল ও ইন্দোনেশিয়া।
গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ চিত্র।
নেপাল-ইন্দোনেশিয়া বনাম বাংলাদেশ: পরিসংখ্যানের হতাশাজনক চিত্র জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, বাংলাদেশ বাদে অপর ১৪টি সোর্স কান্ট্রি থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেওয়া শুরু করেছে।
-
অন্য দেশের অগ্রগতি: গত জানুয়ারি থেকে ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়েছে ৪১ হাজার ৩৭৩ জন। আগামী জানুয়ারি মাসে আরও ৫০ হাজার কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করেছে তারা।
-
বাংলাদেশের ধস: গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী গেছে মাত্র ২৯০ জন।
-
২০২৫ সালের হিসাব: জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপাল পাঠিয়েছে ২১,১৮৩ জন এবং ইন্দোনেশিয়া ২৯,৯০০ জন। সেখানে নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে গেছে মাত্র ৯০ জন।
-
নিবন্ধন: ২০২৫ সালে ১৪টি দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কর্মী পাঠানোর নিবন্ধন হয়েছে (নেপাল একাই ৬০ হাজার)। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ১,৮৫৩ জনের।
আটকে পড়া ১৮ হাজার কর্মী ও বোয়েসেলের ব্যর্থতা ২০২৪ সালের ৩১ মে’র মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করেও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মী।
-
প্রতিশ্রুতি: গত বছরের ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরে এসে এসব কর্মীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও দুইবার মালয়েশিয়া সফর করেছেন।
-
বোয়েসেলের ভূমিকা: আটকে পড়া কর্মীদের মধ্যে ৭,৮৬৯ জনকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সরকারি সংস্থা বোয়েসেল-কে। কিন্তু গত ৬ মাসে তারা পাঠাতে পেরেছে মাত্র ১৫০ জন।
মামলা ও সিন্ডিকেট জটিলতা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ২০২২-২৪ সালে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সিআইডি ও দুদক মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢালাও মামলা করেছে।
-
মালয়েশিয়ার আপত্তি: মালয়েশিয়া সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব ‘অপ্রমাণিত’ অভিযোগ প্রত্যাহার না হলে তারা কর্মী নেবে না, কারণ এতে তাদের দেশের মানব পাচার সূচক (Trafficking Index) খারাপ হয়।
-
নতুন সিন্ডিকেট: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিগত সময়ের অভিযুক্ত সিন্ডিকেটকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম অভিযোগ থাকা এজেন্সিগুলোকে দিয়ে কাজ করানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভয়, এতে নতুন করে আরেকটি সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে।