তানজিদ হাসানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিপিএল ২০২৬-এর শিরোপা জিতে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে একপেশে লড়াইয়ে এই জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে ২০২০ সালে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে শিরোপা জিতলেও, ভিন্ন নামে এটি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দ্বিতীয় শিরোপা।
হেলিকপ্টারে ট্রফি ও উৎসবের আবহ ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরের আকাশে দেখা যায় নাটকীয় দৃশ্য। লাল মখমল কাপড়ে মোড়ানো বিপিএলের ট্রফি নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে মাঠে নেমে আসেন বাংলাদেশের দুই সফল অধিনায়ক—অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী আকবর আলী এবং নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন। গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে তখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
ম্যাচের স্কোরকার্ড ও তানজিদ শো
-
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৪/৪।
-
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১ (অলআউট)।
-
ফল: রাজশাহী ৬৩ রানে জয়ী।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ধীরগতির হলেও ওপেনার তানজিদ হাসান একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। দুইবার ক্যাচ ফসকে জীবন পেয়ে তিনি গড়েন ইতিহাস।
-
তানজিদের ইনিংস: ৬২ বলে ১০০ রান (৬টি চার ও ৭টি ছক্কা)।
-
রেকর্ড: বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিপিএলে সর্বোচ্চ ৩টি সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনি। এছাড়া ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান তিনি। তানজিদ ছাড়াও ফারহান ৩০ এবং কেন উইলিয়ামসন ২৪ রান করেন।
শরীফুলের রেকর্ড ও চট্টগ্রামের ব্যর্থতা বল হাতে চট্টগ্রামের পেসার শরীফুল ইসলাম ২ উইকেট নিয়ে গড়েন অনন্য রেকর্ড। তাসকিন আহমেদকে পেছনে ফেলে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬টি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে। তবে ১৭৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদের তোপের মুখে পড়ে চট্টগ্রাম।
-
বিনুরার তৃতীয় ওভারেই ৩ বলের ব্যবধানে মোহাম্মদ নাঈম ও মাহমুদুল হাসান ফিরে যান।
-
ওপেনার মির্জা তাহির বেগ (৩৬ বলে ৩৯) ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি।
-
চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী হাসান বল হাতে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।
বোলিং ফিগার (রাজশাহী):
-
বিনুরা ফার্নান্দো: ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট।
-
হাসান মুরাদ: ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট।
-
জিমি নিশাম: ২ উইকেট।
পুরস্কার ও সমাপনী বিসিবি টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন চট্টগ্রামের মালিকানা নিলেও দলটি ফাইনালে উঠেছিল। তবে ফাইনালে তারা ছিল একেবারেই বিবর্ণ। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই গোছানো দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স যোগ্য দল হিসেবেই শেষ হাসি হাসল।
-
ম্যান অব দ্য ফাইনাল: তানজিদ হাসান (রাজশাহী)।
-
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: শরীফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)।