বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বলেছিলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলা। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে।
বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির অন্যতম নায়ক ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে গোলশূন্য ড্র নিশ্চিত করে তিনি নজর কাড়েন ফুটবল বিশ্বের।
উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতা ফেরানো এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট—সব মিলিয়ে কেপ ভার্দে হয়ে উঠেছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। ভোজিনিয়া নিজেও আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, “আমরা ছোট, কিন্তু আমাদের হৃদয়টা বড়। আমরা লড়াকু।”
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ছিল মাত্র ৪৫ হাজার। স্পেন ম্যাচের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লাখে। এবার তাঁর সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—লিওনেল মেসি।
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে ছয় গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তাঁর দখলে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে নেমে বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, “কেপ ভার্দে যে কঠিন প্রতিপক্ষ নয়, এমন দাবি করাটা মিথ্যাচার হবে।”
অন্যদিকে কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেসও আশাবাদী। তিনি মেসিকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় দলের জার্সি উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে কেপ ভার্দের জয়ের আশা ব্যক্ত করেছেন।
তবে ভোজিনিয়ার স্বপ্ন আরও নির্দিষ্ট। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি কল্পনা করেছিলেন—শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে, আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেয়েছে, আর সেই পেনাল্টি নিতে এসেছেন মেসি। তিনি সেটি ঠেকিয়ে দিয়েছেন।
ভোজিনিয়ার ভাষায়, “সেটা যদি সেভ করতে পারি, সত্যিকারের স্বপ্নপূরণ হবে।”
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই ভিন্ন বাস্তবতা—একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দে। ফল যাই হোক, ভোজিনিয়ার সামনে আজ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার বিরল এক সুযোগ অপেক্ষা করছে।