ইএসপিএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই ঘটনার আইনি ও কারিগরি ভিত্তি এক ছিল না। তাই একটিতে গোল বাতিল হয়েছে, অন্যটিতে আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা হয়েছে।
মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল?
- ৬২তম মিনিটে মোস্তাফা জিকো গোল করেন।
- কিন্তু গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণপর্বে মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ–এর জার্সি টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন।
- ভিএআর এটিকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে চিহ্নিত করে রেফারিকে মনিটরে দেখতে বলে।
- রেফারি ভিডিও দেখে গোল বাতিল করেন।
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস–এর মতে:
- এটি ছিল স্পষ্ট (clear) ফাউল।
- সেই ফাউলের সরাসরি ধারাবাহিকতা (same attacking phase) থেকেই গোলটি আসে।
- তাই ফুটবলের আইন অনুযায়ী গোল বাতিল করা সঠিক সিদ্ধান্ত।
আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল কেন বহাল ছিল?
ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি পেনাল্টির আবেদন করে—
- আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার নাকি হামদি ফাতি–র জার্সি টেনেছিলেন।
- মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন।
ভিএআর দুই ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
ডেভিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
- ম্যাক আলিস্টারের জার্সি ধরা ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য এবং এতে ফাতির খেলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
- সালাহর ঘটনায় দুই খেলোয়াড়ের বুট স্বাভাবিকভাবে একে অপরের সঙ্গে লাগে। এটিকে তিনি ফাউলের চেয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা বেশি বলে মনে করেন।
- তাই কোনো ঘটনাই "স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল" (clear and obvious error) ছিল না, ফলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।
দুই ঘটনার মূল পার্থক্য
- মিসরের বাতিল হওয়া গোল: স্পষ্ট জার্সি টানা + পায়ের ওপর পা রাখা → সরাসরি সেই আক্রমণ থেকেই গোল → গোল বাতিল।
- আর্জেন্টিনার গোলের আগে অভিযোগ: সামান্য শারীরিক সংস্পর্শ বা স্বল্প সময়ের জার্সি ধরা → খেলার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই → পেনাল্টি নয়, গোল বহাল।
তবে উল্লেখ্য, মিসরের কোচ হোসাম হাসান এই সিদ্ধান্তগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মনে করেন তাঁদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। অন্যদিকে ইএসপিএনের রেফারিং বিশ্লেষক অ্যান্ডি ডেভিসের মূল্যায়ন হলো—দুটি সিদ্ধান্তই ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল।