বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু লিড ধরে রাখার কৌশলই শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয়ের কারণ হয়েছে বলে মনে করেন দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারের পর নিজেদের কৌশলগত ভুলের কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে ৮৪তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে জয়সূচক গোল করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কেইন বলেন, ‘ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ি। এই পর্যায়ের ম্যাচে শুধু লিড ধরে রাখার চেষ্টা করলে চলে না।’
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেও পরাজয়ের হতাশা লুকাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব কষ্টের। এখানে পৌঁছাতে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। পুরো দল, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের জন্যই খারাপ লাগছে।’
১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি ইংল্যান্ড। এবারও শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে থেমে যেতে হওয়ায় হতাশ কেইন।
তার ভাষায়, ‘এই টুর্নামেন্টে আমাদের অনেক ইতিবাচক মুহূর্ত ছিল। আবারও আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি। বারবার সাফল্যের খুব কাছে পৌঁছাই, কিন্তু শেষ ধাপেই কোথাও না কোথাও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সেই জায়গাটা খুঁজে বের করে উন্নতি করতে হবে।’
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের মানসিক ও শারীরিক চাপের কথাও উল্লেখ করেন ইংলিশ অধিনায়ক।
কেইন বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরীক্ষা। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ ধাপটা আর পেরোতে পারলাম না।’