ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ করেনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের করা অভিযোগটি আইওসির নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইওসির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগ ছিল—ইনফান্তিনো বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেখিয়ে আইওসির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন।
তবে অভিযোগ পর্যালোচনা শেষে আইওসির নৈতিকতা কমিশন জানায়, অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন (আইএফ) নিজস্ব শাসনব্যবস্থা পরিচালনায় স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত। ফলে বিষয়টি আইওসির সরাসরি বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি
ইনফান্তিনোসহ অলিম্পিক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এমন একটি শপথ নিতে হয়, যেখানে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার থাকে। এই নীতিও অলিম্পিক চার্টারের অংশ।
এর আগেও ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে ইনফান্তিনোর অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের প্রতীক হিসেবে ‘USA’ ও ‘45–47’ লেখা একটি লাল টুপি পরেছিলেন। সেই বিতর্কও আইওসি পরে গুরুত্ব দেয়নি।
গাজা পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রসঙ্গ
গত ফেব্রুয়ারিতে আইওসি জানিয়েছিল, ফিফার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সংস্থার দাবি, ফিফা গাজায় খেলাধুলাভিত্তিক পুনর্বাসন, ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগে কাজ করছে, যা একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্রাম্পকে ‘শান্তি পদক’ দেওয়া নিয়েও আলোচনা
গত ডিসেম্বরে ফিফা প্রথমবারের মতো ‘শান্তি পদক’ প্রদান করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ইনফান্তিনো তখন বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহারের আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন।