বিএনপির নেতা রাশেদ খান বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে জাতির জন্য দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।
রোববার (২৮ জুন) একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী আজও একই নামে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জামায়াতের অবস্থান দৃশ্যমান হলেও তাদের বক্তব্যে দৃঢ়তা নেই। তার ভাষায়, স্বাধীনতার বিরোধিতার অতীত ইতিহাসের কারণে দলটি আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভুগছে এবং সে কারণেই তারা কার্যকর বিরোধী ভূমিকা রাখতে পারছে না।
জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, সংসদের বাইরে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে সংসদের ভেতরের বক্তব্য ও বাইরের সম্পর্ককে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান বাজেট অধিবেশন নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তার অভিযোগ, বিরোধী দল বাজেটের মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে ভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরছে। তিনি বলেন, বাজেটের সমালোচনা ও বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরার পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা মূল ইস্যু থেকে সরে গেছে।
সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে ছিলেন, অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনা না করে তাদের সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যেসব ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের দায় ব্যক্তিগতভাবে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক চাপের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।