সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক মুজিব আলীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শুক্রবার বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন দুই নেতা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে নিহতদের পরিচয় একটাই—তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করে সীমান্ত এলাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় সারজিস আলম বলেন, যদি বিএনপি জনগণের স্বার্থ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনা করে, তাহলে এনসিপি তাদের পাশে থাকবে। তার ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে শুধু এনসিপিই নয়, দেশের ছাত্র-জনতাও সমর্থন দেবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং নিহত মুজিব আলীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।