জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংসদীয় বিতর্ক দ্রুত রাজপথের আন্দোলনে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনের নামে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস (বিসিএআই)।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব বিরোধী দলের। সংসদের ভেতরের বিতর্ক অপ্রয়োজনে দ্রুত রাজপথে নিয়ে গেলে গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হতে পারে।
তিনি বলেন, সংসদীয় রাজনীতিকে কার্যকর রাখতে বিরোধী দলকে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিতে হবে। শুধু সরকারকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।
লংমার্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে জহির স্বপন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বিবেচনা করে এসব কর্মসূচি দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি অপেক্ষায় থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী চর্চা, দুর্বল সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। সংকটের গভীরতার কারণে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর নীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এ খাতগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে। অতীতে ক্ষমতায় থাকা সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার সংকটের দায় এড়িয়ে না গিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক করতে আমদানির ক্ষেত্রে নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন জহির স্বপন। চীন ও ভারতের বাইরে নতুন বাজার ও সরবরাহের উৎস তৈরির বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। এতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গবেষণাভিত্তিক ও গঠনমূলক এ ধরনের আলোচনা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।