রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। তিনি জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলির প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জোটের সব দলের সম্মতি রয়েছে।

কর্নেল অলি আহমদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধে তিনি জিয়াউর রহমানের অধীনে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারেও তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে তৎকালীন চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধ থাকলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি উভয় দলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।

২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বের হয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন কর্নেল অলি। সে সময় বিএনপির ৩২ জন সংসদ সদস্য তাঁর সঙ্গে দল ছাড়েন, যা বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভাঙন হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপির হয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জয়ী হন। পরে ২০১২ সালে খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতায় তাঁর দল এলডিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যুক্ত হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থীও নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত