সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন কারাগারে, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের নানা দাবি
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ডনসহ এজাহারনামীয় অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডন জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং তিনি আবারও আত্মগোপন করতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
শুনানিতে প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর। মামলায় ডনকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ডন রোববার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করার পর সিআইডি হেফাজতে নেয়।
পিপি আদালতকে বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে তাঁর স্ত্রী সামিরা হক তাঁদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। পরে রাতে একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার পরিবারের সদস্যদের জানান, সালমান শাহর সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে সালমান শাহর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও আদালতে জানানো হয়।
পিপির দাবি, ওই জবানবন্দিতে সামিরা হকের সঙ্গে ডনের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে এবং ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সালমান শাহকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে সালমান শাহকে অচেতন করা হয় এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
তবে আদালতে উপস্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানির পর আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল ডনের
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। রোববার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে সিআইডিকে বিষয়টি জানায়। পরে সিআইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।