নির্বাচনের মতো দেশ গঠনেও সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করবে।

রোববার বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের আগে আলেম-ওলামাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি হুজুরকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি আসবো। আল্লাহর রহমতে আমরা সরকার গঠন করেছি। আজকে আল্লাহ আমাকে সেই রহমত দিয়েছেন যে আমি এসে আমার প্রিয় হুজুরের কাছে যেতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, গত নির্বাচনের সময় আলেম-ওলামাদের সহযোগিতায় দেশকে একটি বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের সব সমস্যা এখনো শেষ হয়নি।

বিগত সরকারের সময় দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে এখন দেশের মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার খেসারত দিতে হচ্ছে।

‘গ্যাস সংকট ৫–৭ দিনের মধ্যে অনেকটা কমবে’

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে বর্তমানে জনগণকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান গ্যাস সংকট আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে দেশের মানুষ ও তাদের সন্তানরা খেয়ে-পরে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবেন।

‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়বে’

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, নির্বাচনের পর দেশ গঠনের কাজেও সেভাবে একসঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

‘দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য’—বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আলেম-ওলামারা সরকারের সহযোগী’

আলেম-ওলামাদের সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁরা সরাসরি সরকারের অংশ না হলেও দেশ পরিচালনায় সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম-ওলামাদেরও এ কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।

এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে পৌঁছান।

হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণের পর সেখানে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পরে তারেক রহমান হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত