রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরে নির্ভর করে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না। সবাই সময়মতো জানতে পারবেন।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে স্পিকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার সঙ্গে এ গুঞ্জনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এ প্রশ্নেরও সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি পরে স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে শুক্রবার দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে তাঁর কাছে আলাদা কোনো তথ্য নেই।
স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তবে সংবিধান অনুযায়ী তা স্পিকারের কাছেই জমা দেবেন। এরপর নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গঠারে কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জনগণের গণতন্ত্রের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।