যুক্তরাষ্ট্রের চাপেও ইসরায়েল ইস্যুতে নীতিতে পরিবর্তন নয়: মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: Bloomberg
ছবি: Bloomberg

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসছে না মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলছে, এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিরই ধারাবাহিকতা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এক ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁর ইসরায়েলি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হলে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করা হয়।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানান, রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি বহুদিন ধরেই কার্যকর রয়েছে। তাঁর ভাষায়, মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতিও ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় অধিকারকে সমর্থন করে আসছে এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় মালয়েশিয়ায় পরিচালিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামে একটি ডিজিটাল নোম্যাড কর্মসূচিকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানে ইসরায়েলি নাগরিকদের অংশগ্রহণের দাবি ওঠার পর বিষয়টি তদন্ত করে কর্তৃপক্ষ। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে চিঠি দিয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি কুয়ালালামপুরের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুনর্ব্যক্ত করেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গাজায় চলমান সংঘাতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই মালয়েশিয়ার নীতির ভিত্তি।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতিতে পরিবর্তন না এলে মালয়েশিয়ার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়েও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত