বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; দলটি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।
শুক্রবার নরসিংদীর তাঁত বোর্ড ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল মঈন খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা বলে। বিএনপি এই আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তাঁর সময়ে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে এসব খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নরসিংদীর সন্তান প্রয়াত আবদুল মোমেন খানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, বিএনপির প্রাথমিক সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আবদুল মোমেন খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে নরসিংদীতেও দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
বক্তব্যে বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, দলের ইতিহাস ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।