ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, বাস, ট্রেন ও নৌযানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পরিবহনে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি কৃষি ও নির্মাণ খাতেও ডিজেলচালিত যান ও যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় এসব খাতের পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর পাইকারি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানি বাজারেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে নতুন একটি চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় তেল উত্তোলন ও পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের বিষয়টিও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানির দামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।