স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সরাসরি নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে নয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে নয়, নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ আইন করে বন্ধ করার সুযোগ নেই।
তবে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করা, দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা এবং ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের জামিনদারদের প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে চাকরি ছাড়ার শর্ত রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে কমিশনের বৈঠকে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার পর অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তবে আচরণবিধির সংশোধন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছিল একটি রাজনৈতিক দল। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ সীমিত করার সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে তাদের অযোগ্যতা আর বহাল থাকবে না।
এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার বিষয়ে আইনগত সামঞ্জস্য বজায় রাখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ঋণের জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়েও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজন হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বর্তমান বিধান পরিবর্তন, জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে মনোনয়ন বাতিলের বিধান যুক্ত করার সুপারিশও রয়েছে ইসির প্রস্তাবনায়।