সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর তাঁর স্ত্রীর জন্য চাকরির সুপারিশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীর একটি জীবনবৃত্তান্তে চাকরির জন্য সুপারিশ করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই জীবনবৃত্তান্তে বৈবাহিক অবস্থার ঘরে ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ ছিল, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট তরুণীর দাবি, জীবনবৃত্তান্তটি বিয়ের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং পরে সুপারিশ নেওয়া হয়।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও এমপিকে কয়েকজন ব্যক্তির মুখোমুখি হতে দেখা যায়। ভিডিওটি সত্য বলে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেছেন, এটি গোপনে ধারণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশের আগে অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
এমপির প্রথম স্ত্রীও একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তাঁর সম্মতিতেই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারও দাবি করেছে, বিয়েটি পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও উভয়ের সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়েছে। বয়সের বড় পার্থক্য নিয়েও সমালোচনা হলেও দ্বিতীয় স্ত্রী জানিয়েছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
ঘটনাটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে ভিডিও ফাঁস, চাকরির সুপারিশ এবং অর্থ দাবির অভিযোগ—সবকিছু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি।