ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে আয়োজিত বিরোধী দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংসদ অভিমুখে যাত্রা করা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কংগ্রেসের দাবি, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালেই পুলিশ রাহুল গান্ধীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, আটক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কেও পুলিশ কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনায় জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পরে আরেকটি বার্তায় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে কংগ্রেস নেতারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আগের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন।