জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে সেই রাজনৈতিক শূন্যতা কে পূরণ করবে—এ প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।

রোববার সংসদে বক্তব্যে তিনি বলেন, “ধরে নিলাম জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলো। এরপর সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ পরিচালনা করতে চান? নাকি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে?”

এটিএম আজহার আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, গত চার মাসেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি এবং আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক নেতাদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে অন্যায় দাবি করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

নিজের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও পরবর্তীতে রিভিউ আবেদনে তিনি খালাস পান।

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর মতে, বাজেটটি অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী এবং ঋণনির্ভর। তিনি বলেন, প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলবে।

এটিএম আজহারের ভাষ্য, রাজস্ব আদায়ের অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ে সংকোচনের কারণে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তিনি পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

এ সময় তিনি সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক আর্থিক উপকরণ, বিশেষ করে সুকুক ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, একবারে সুদমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে বিকল্প ব্যবস্থা চালু করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত