কে এই আবু তৈয়ব হাবিলদার এবং তার পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ

সহযাত্রী নিউজ ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

সহযাত্রী ডেস্ক: 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত চরিত্র আবু তৈয়ব হাবিলদারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন- কে এই তৈয়ব এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে?

পরিবার ও ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয়:
অনুসন্ধানে জানা যায়, আবু তৈয়ব হাবিলদার চট্টগ্রামের একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শী পরিবারের সন্তান। তার ভাই একটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবির ট্যাগ দিয়ে তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। সে সময় যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে প্রধান অতিথি করে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তৎসত্ত্বেও ছাত্রলীগ তাকে ছাড় দেয়নি। এমনকি ডা. দীপু মনিও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে সে সময় তৈয়বের পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন।

বিতর্কিত রাজনৈতিক গতিপথ ও অ্যাক্টিভিজম:
২০০৯ সালের পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে ছাত্রদল বা মূলধারার ছাত্ররাজনীতির কোনো মিছিলে বা রাজপথের কার্যক্রমে তৈয়বের সরব উপস্থিতি দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালের পরবর্তী সময়ে তিনি হঠাৎ বিভিন্ন অ্যাক্টিভিজমে দৃশ্যমান হন। বিএনপি সরকার এবার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরেই জাগপার প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের বাসায় হামলার সঙ্গে তার সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ঘটনা ও কার্যক্রমে তার সরব উপস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কারা ব্যবহার করছে তৈয়বকে?:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, আবু তৈয়ব স্বাধীনভাবে কোনো রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন না; বরং তাকে বিভিন্ন সময় বিশেষ মহলের ইশারায় ব্যবহার করা হয়েছে। ২৫ বছর আগে উর্দু বিভাগে ভর্তি হওয়া এবং একসময়ের জামায়াত-শিবির ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন ব্যক্তিকে সামনে রেখে বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করানোর পেছনের মূল উদ্দেশ্য হলো- তার কর্মকাণ্ডের দায় যেন নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর ওপর চাপানো যায়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৈয়বের মতো চরিত্রগুলো হলো মূলত 'ব্যবহৃত টিস্যু পেপার'-এর মতো, যাদের পরিস্থিতি বিশেষে মাঠে নামানো হয়। ফলে তৈয়বের ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কাজগুলোকে অতি গুরুত্ব না দিয়ে, এর নেপথ্যে থাকা কুশীলব এবং ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত