সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
রোববার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজের অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পুলিশিং পদ্ধতিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে আলী হোসেন ফকির বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করবেন না, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কৌশল ও যোগাযোগ দক্ষতাও বাড়াতে পারবেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের অন্যান্য তদন্তকারীদের কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে সাইবার মামলা তদন্তে দক্ষ কর্মকর্তার সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে। এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ উপকরণ ও কোর্স মডিউল সময়োপযোগী করে হালনাগাদ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনেও সহায়ক হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।