একাত্তরকে ছোট করা ‘ছোটলোকি’: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনী নিয়ে রিজভীর ক্ষোভ

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: Video
ছবি: Video

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এসব কথা বলেন। আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান রিজভী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বর্তমানে একাত্তর, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলারও একটি প্রচেষ্টা চলছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, সেখানে একটি চিত্রকর্মে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে তুলনামূলকভাবে ছোট এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে দেখানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের উপস্থাপন ‘ছোটলোকি’।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যাঁরা অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁরাই এখন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

রিজভী বলেন, একটি চিত্রপ্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সাল থেকে জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হলেও সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি রাখা হয়নি। পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনের আয়োজনে প্রদর্শিত চিত্রকর্মে একাত্তরের তুলনায় জুলাইকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও একাত্তরের ইতিহাসের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্য। তাঁর ভূমিকা মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে একটি সময়ের ঘটনাকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে খাটো করা উচিত নয়—তাঁর বক্তব্যে এমন অবস্থানই উঠে আসে।

এদিকে আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের কথাও স্মরণ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে। ক্রীড়ার ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির অভিযোগও করেন রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

রিজভী দাবি করেন, একসময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়া তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত