অতীতের বিষয়গুলো পেছনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে নতুন সূচনা বা ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং বিভিন্ন চলমান ইস্যু নিয়ে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক যোগাযোগ, রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু ভৌগোলিক সীমান্ত ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের মানুষ সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ থাকা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিরই অংশ। তবে সব বাধা অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি শক্তিশালী ও চমৎকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই, যা আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও উজ্জ্বল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ চিহ্নিত পলাতক আসামিদের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁদের বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।