বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছরে দুই দেশের মধ্যে যেভাবে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে সমতা, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ ও আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনার সরকারের সময় ভারতের বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, ভবিষ্যতে সেভাবে কাউকে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এখন থেকে সবকিছু স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত সরকারও তাঁকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন।
এদিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাকিব একজন ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, তবে ব্যক্তি হিসেবে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন বলে তিনি মনে করেন।
তবে সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে দেশে ফিরলে তাঁকে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনি অধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকেও পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং নাগরিক হিসেবে তাঁর আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে।