আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংগঠনটি শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করছে।
খন্দকার মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও জ্ঞান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের জাতীয় রাজস্বের ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে কর্টেভা বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারি উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।
অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।