ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাজানো ও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্মেলনে অংশ নিতে আসা বিদেশি নেতাদের যাতায়াতের পথের পাশে থাকা বস্তি ও অস্থায়ী বসতিগুলো কাপড় দিয়ে আড়াল করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা দরিদ্র মানুষের বসতি ঢাকতে পর্দার মতো কাপড় টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছে দিল্লির আম আদমি পার্টি (এএপি)।
দলটির দাবি, বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে বস্তি কিংবা দরিদ্র মানুষের বসতি আড়াল করলেই দিল্লির প্রকৃত চিত্র বদলে যাবে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কার্টুনও প্রকাশ করেছে এএপি।
কার্টুনটিতে ‘ভিশন ২০৪৭’ লেখা একটি আয়নার ভেতরে উন্নত দিল্লি ও ব্রিকস সম্মেলনের ভেন্যু ভারত মণ্ডপম দেখানো হয়। অন্যদিকে আয়নার বাইরে তুলে ধরা হয়েছে বস্তি, আবর্জনা ও অস্থায়ী ঘরবাড়ির চিত্র।
এএপি বলেছে, পর্দা দিয়ে বস্তি ঢেকে রাখার মাধ্যমে বাস্তবতা আড়াল করা যায়, কিন্তু পরিবর্তন করা যায় না। দলটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সরকারি পরিসংখ্যান নিয়েও কটাক্ষ করে বস্তি আড়াল করার বিষয়টির সঙ্গে তুলনা করেছে।
নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক কোনো বড় আয়োজন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে বস্তি ও অননুমোদিত বসতি আড়াল করার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা দরিদ্র এলাকাগুলো আড়াল করতে পর্দা, সবুজ চাদর ও অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, দরিদ্র মানুষের বসতি লোকচক্ষুর আড়ালে নেওয়ার পরিবর্তে এসব এলাকার জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সাময়িকভাবে বস্তি ঢেকে রাখলে শহরের দারিদ্র্য বা বাস্তব পরিস্থিতি দূর হয় না।
ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও।