স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে: ববি হাজ্জাজ

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছর থেকে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি শুধু শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নয়, একই সঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার পিটিআইয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজিত ‘জবাবদিহিতা, কার্যকর বিদ্যালয় নেতৃত্ব, দলগত সমন্বয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিশুর প্রাপ্য খাবার যথাযথ মান ও পরিমাণে পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচির প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে এসে যথাযথভাবে শেখে, সেটিই মূল লক্ষ্য। একটি শিশুও যদি বিদ্যালয়ে গিয়ে না শেখে, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য পূর্ণাঙ্গ হবে না।

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য কতটি ভবন নির্মাণ হয়েছে, তা দিয়ে নয়; বরং কতসংখ্যক শিশুর শেখা নিশ্চিত হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। ভবন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে পারে না। দক্ষ শিক্ষক, কার্যকর শ্রেণিকক্ষ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম আরও আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দুটি নতুন বই যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কেও প্রাথমিক ধারণা পাবে। একই সঙ্গে খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাক্রমে সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব নীতিমালায় পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে।

ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মাহবুবা আইরিন এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মো. আবদুল আজিজ।

এ ছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত