বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সঙ্গে নতুন একটি অনুদান চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর আওতায় সম্ভাবনাময় তরুণ সরকারি কর্মকর্তাদের জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়া হবে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে ২০২৬ সালের জাপানিজ গ্রান্ট এইড ফর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (জেডিএস) স্কলারশিপের জন্য এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তিতে জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো এবং ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী স্বাক্ষর করেন।
৩৩ কর্মকর্তা পাবেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ
চুক্তির আওতায় মোট ৩৩ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন মাস্টার্স এবং তিনজন ডক্টরাল বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা করবেন।
এ জন্য সর্বোচ্চ ৫৬৭ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান দেওয়া হবে, যা প্রায় ৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
জেডিএস কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সরকারি ব্যবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করা। জাপানে উচ্চশিক্ষা শেষে এসব কর্মকর্তা দেশে ফিরে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন।
জাপানের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশের অভিজ্ঞতা
শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, জেডিএস কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জাপানের সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জেডিএস কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এ কর্মসূচি ২০০১ সালে শুরু হয়। জেডিএসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৯০ জন বাংলাদেশি ফেলো—৫৬৭ জন মাস্টার্স এবং ২৩ জন ডক্টরাল পর্যায়ে—জাপানে পড়াশোনা করেছেন।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্যও বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স পর্যায়ে ৩০ জনকে পাঠানোর তথ্য জেডিএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে রয়েছে।
এক্সচেঞ্জ অব নোটসেও স্বাক্ষর
স্কলারশিপ অনুদান চুক্তির আগে একই অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির এক্সচেঞ্জ অব নোটস (E/N) স্বাক্ষর করা হয়।
এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।