ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করলেও হামাস নেতাদের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হামাসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মিসরে বিরল বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের প্রকাশ্য আপত্তির মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

রোববার মিসরের আল-আলামেইন শহরে কুশনারের সঙ্গে হামাসের নেতা খলিল আল-হায়ার বৈঠক হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারসহ ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গাজাবিষয়ক শান্তি পর্ষদের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও উপস্থিত ছিলেন। মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা

ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। এর বিনিময়ে গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পরবর্তী সময়ে একটি বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে গাজা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনায় গাজার পুনর্গঠনের বিষয়টিও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ কীভাবে যাচাই করা হবে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া হবে—এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে হামাসও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংগঠনটি পরিকল্পনাটির পরবর্তী ধাপে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।

ইসরায়েলের আপত্তি

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনাকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অবস্থান হলো, হামাসের সম্পূর্ণ ও কার্যকর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে না।

এই অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কুশনারের মিসর সফরের পর সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা ছিল। সেখানে গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ

হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। ফলে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল।

তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক সময়ে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কুশনারের এবারের বৈঠক সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে হামাস নেতা খলিল আল-হায়া মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। কুশনার পরে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব পক্ষকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর ওই বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গাজায় আবারও হামলা

শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইসরায়েল আবার বিমান হামলা জোরদার করেছে। খান ইউনিস ও নুসেইরাত এলাকায় হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ইসরায়েলের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের সমালোচনা করেছে মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, কুশনারের হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক গাজা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেকটাই বিপরীত। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই দুটি বিষয়ের সমাধানের ওপর।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত